জানা নিউজ

ফাামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, পাচ্ছেন সাড়ে ৩৭ হাজার নারী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী কার্ড পেতে যাচ্ছেন এ কার্ড। রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী এ কার্ড উদ্বোধন করেন তিনি।

জানা গেছে, উদ্বোধনের আগেই উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে টাকা পৌঁছেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে সংগীতের সঙ্গে তাল মেলান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. আবু ইউসুফ।

এদিন সকাল থেকেই টিঅ্যান্ডটি মাঠে জড়ো হন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ। তাদের অনেকের মুঠোফোনে এরই মধ্যে সরকারি সহায়তার টাকা জমা হওয়ার বার্তা পৌঁছে গেছে। ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তা পেয়ে অনেকের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের অশ্রু। কেউ এই টাকায় ওষুধের খরচ মেটানোর স্বপ্ন দেখছেন, কেউবা ভাবছেন কিছুটা সঞ্চয়ের কথা।

এই কর্মসূচির আওতায় দেশের নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬%) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।