রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সোহেল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”
তিনি বলেন, বিচারহীনতার অভিযোগ সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু মামলায় বিচার বিলম্বিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তবে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। “এই ঘটনাতেও সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে,” বলেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর সেকশন ১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাত বছর বয়সী রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুমের একটি বালতি থেকে তার কাটা মাথা পাওয়া যায়। ঘটনাটি রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা শিশুটিকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করতে দেহ খণ্ডিত করা হয়। হত্যার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তখন ফ্ল্যাটের ভেতরেই ছিলেন।
শিশুটির পরিবারের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হয়। পরে তাকে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর খাটের নিচে মরদেহ পাওয়া যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বর্তমানে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে তালিকা তৈরি করে কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড ছাড়াও আছিয়া, তনু হত্যাসহ বিভিন্ন আলোচিত মামলায়ও সরকার নজর রাখছে।
আইন সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আবেগের বশে তড়িঘড়ি করে আইন তৈরি না করে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। “খুব দ্রুত বিচার করতে গিয়ে যেন অবিচার না হয়, সেটাও দেখতে হবে,” বলেন তিনি।
এদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও একই দিনে বলেন, “রামিসার মতো ঘটনা আমাদের মানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই অচ্যালেঞ্জড থাকতে পারে না।” তিনি পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।