তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
সমুদ্রদূষণের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ নির্মল পরিবেশ ও বিশুদ্ধ বাতাসের আশায় সমুদ্রের কাছে ছুটে যায়। অথচ সেই সমুদ্রই নানা ধরনের দূষণের শিকার হচ্ছে। সমুদ্রের তলদেশের দূষণ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সংকট আমাদের ভাবতে হবে। সমুদ্র, পাহাড়, নদী ও জলাশয় শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না; এগুলোর সঙ্গে মানুষের জীবন জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পদও জড়িত।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার। এককভাবে কেউ পুরো সমাজ পরিবর্তন করতে না পারলেও সম্মিলিত উদ্যোগে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এজন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
তরুণদের উদ্দেশে ফরিদা খানম বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের হাতে। তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ইতিবাচক চিন্তা, মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ইউথফরওশান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গত ১৮ অক্টোবর শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী ‘ওয়েভস অব লাইফ’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জলজ জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশগত সংকটকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
প্রদর্শনীতে দেশজুড়ে সংগৃহীত নির্বাচিত আলোকচিত্র স্থান পায়। পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণ, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও ফটোসাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর এবং ইউথফরওশানের মেন্টর ও উপদেষ্টা শরীফ জামিল, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাণী অধিকারকর্মী আদনান আজাদ এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিচারক প্যানেলের সদস্য আলোকচিত্রী আবীর আবদুল্লাহ, পরিবেশকর্মী ও সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এবং সামুদ্রিক গবেষক মফিজ রহমান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় বিচারকদের মূল্যায়ন ও দর্শকদের সরাসরি ভোটের সমন্বয়ে ‘সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য’, ‘জলজ জীবন-জীবিকা ও উপকূলীয় দূষণ’ এবং ‘জ্বালানি ও পরিবেশ’ এই তিন বিভাগে সেরা আলোকচিত্রীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র ও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।