জানা নিউজ

দেশে এক বছরের ব্যবধানেই উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে লবণের উৎপাদন

দেশে এক বছরের ব্যবধানেই উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে লবণের উৎপাদন। ফলে বাজারে বাড়ছে লবণের দামও। গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টন কম লবণ উৎপাদন হয়েছে। বিসিক ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৬ টন। পাশাপাশি দেশে ভোজ্য লবণের পাশাপাশি শিল্প খাতে লবণের চাহিদা বাড়ায় দ্রুত কমে আসছে আগের মজুদ। উৎপাদনে বড় ঘাটতি, কমে আসা মজুদ আর বাড়তি চাহিদায় দেশে লবণের বাজারে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা বাড়ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এক বছরের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে লবণের দাম। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দেড় লাখ টন লবণ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। বিসিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার দেশে লবণের উৎপাদন কমেছে। যদিও দেশে বিগত কয়েক মৌসুমেই লবণের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। বিগত ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশে রেকর্ড ২৪ লাখ ৩৮ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়। কিন্তু পরবর্তী মৌসুমে তা কমে ২২ লাখ ৫৫ হাজার টনে নেমে আসে। আর সর্বশেষ মৌসুমে উৎপাদন আরো কমে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৬ টন। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৪ টন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশে লবণ উৎপাদন কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় চাষ হয়। সর্বশেষ মৌসুমে ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে প্রায় ৪০ হাজার ১৫০ চাষী লবণ উৎপাদন করেছে। কিন্তু নতুন মৌসুম শুরুর আগেই মজুদ দ্রুত কমে আসায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যে খোলা ও নন-ব্র্যান্ডেড লবণের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দ্রুত নতুন উৎপাদন শুরু ও প্রয়োজনীয় আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে লবণের বাজার। দেশে সর্বশেষ লবণের মৌসুম গত ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে চলতি ২০২৬ সালের ২৫ মে শেষ হয়। ১৯৪ দিনের এই সময়ে কুয়াশা, বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষীরা ৩৫-৪০ দিন মাঠে নামতে পারেনি। তাতে উৎপাদনের নির্ধারিত সময় পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া সামপ্রতিক বছরগুলোয় লবণ চাষের জমি বৃদ্ধির হারও কমে এসেছে। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে লবণের মজুদ ছিল ৫ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৪ টন। তার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুদের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার টন আর পরিবহনরত ছিল ৩৫ হাজার ১৫০ টন। ফলে নতুন মৌসুমে উৎপাদন শুরুর আগ পর্যন্ত এ মজুদ দিয়ে চাহিদা মেটানো কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঘাটতি মোকাবেলায় বিসিকের লবণ সেল দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন চেয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে প্রতি মণ (৪০ কেজি) অপরিশোধিত লবণ ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে ওই দর ২৫৩ টাকা ছিল। এক বছরে প্রতি মণে ১২৭ টাকা বা ৫০ শতাংশ দাম বেড়েছে। ইতিমধ্যে বাজারে দাম আরো ২০ টাকা বেড়ে প্রতি মণ ৪০০ টাকায় উঠেছে। প্রতি বছর দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে ২২-২৫ লাখ টন। অপরিশোধিত লবণ প্রক্রিয়াজাত ও আয়োডিনযুক্ত করার সময় ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়। আর আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণের চাহিদাই ৮ লাখ টনের বেশি। বাকি লবণ বিশেষ করে টেক্সটাইল ও চামড়া শিল্প খাতে ব্যবহার হয়।

এদিকে এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদ জানান, দেশে লবণের চাহিদা ও ঘাটতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। যে কারণেই বাজারে দাম বাড়ছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে আমদানি প্রক্রিয়া শেষ না হলে বাজারে আরো চাপ বাড়বে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বিসিকের মহাব্যবস্থাপক ও লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার আলম জানান, মূলত স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই দেশের লবণের চাহিদা মেটানো হয়। এবার ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ায় আমদানি ছাড়া উপায় নেই। ঘাটতি বেশি হলেও নতুন মৌসুম আসার আগে সীমিত আকারে লবণ আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে।