জানা নিউজ

দাম বাড়ার পরও তেল সংকটে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তির শেষ নেই

জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পরও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং অনেক জায়গায় তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। একই সঙ্গে রাইড শেয়ারিং ও দৈনন্দিন যাতায়াতে ভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

সম্প্রতি সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা দাম বাড়িয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, জ্বালানি নিতে আসা মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক পাম্পে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, একাধিক ঘণ্টা লাইনে থেকেও তারা তেল পাচ্ছেন না।

তেজগাঁও এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, বাইকারদের সারি প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। সেখানে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল দিচ্ছে না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

একজন চালক শাহরিয়ার হৃদয় বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কখন তেল পাব জানি না।” একইভাবে আরেক গ্রাহক জানান, দাম বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি, বরং অপেক্ষার সময় আরও বেড়েছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, আগে যেখানে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল পাওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না।

রাইড শেয়ারিং চালকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। একাধিক চালক জানান, লাইনে দাঁড়ানোর কারণে তারা দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না, ফলে আয়ও কমে গেছে। অনেকেই বলছেন, অ্যাপে ভাড়া না বাড়লেও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা লোকসানে পড়ছেন।

তবে যাত্রীদের অভিযোগও ভিন্ন নয়। কেউ কেউ জানান, একই দূরত্বের ভাড়া আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। একজন যাত্রী বলেন, স্বল্প দূরত্বের ভাড়া এখন আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু মূল্য সমন্বয় নয়, সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেও বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

তেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে জনমনে অসন্তোষ বাড়লেও এখনো পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।