মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনকারী ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’-এর ওপর বিমান হামলার জেরে সৌদি আরব এটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনার ফলে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশটি একটি ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। বাগদাদ ও রিয়াদ-উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সক্রিয়তা রয়েছে এমন এলাকা অর্থাৎ ইরাক থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলার জেরে গতকাল শনিবার ইরাক একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে। এই হামলার জন্য কারা দায়ী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উপগ্রহ চিত্রে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি অংশ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছে এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে-যার পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে; তবে রপ্তানির ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আরব উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলের জট এড়াতে সহায়তা করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা উত্তেজনার কারণে ওই প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল অত্যন্ত কমে গেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিংকারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, সামপ্রতিক মাসগুলোতে এই লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা বিশ্বব্যাপী মোট সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।