কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দল-মতের বিবেচনা করা হবে না। নদীর ভাঙনে মানুষ যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোক, তাদের নিরাপত্তা ও বসতভিটা রক্ষাই সরকারের দায়িত্ব। গতকাল শনিবার সকালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে একথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীভাঙন একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। শুধু তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো নয়, নদীর গতিপথ, পানির প্রবাহ ও ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কুড়িগ্রামের নদীভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-স্থায়ী ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা-নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। পরে তিনি চিলমারীর বাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী এবং রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় নদীর ভাঙন, বাঁধের অবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি। এ সময় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।