ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কাজী নজমুজ্জামান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, আটতলা ভবনের অষ্টম তলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান তারা। পরে পোস্তগোলা থেকে আরও ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে তিনটি রিজার্ভ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়।
তিনি জানান, ভবনটিতে এসএস টয় নামে একটি খেলনা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। সেখানে শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছাড়া অন্য কোনো অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জের আতশখানা রোডের ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের দুটি ও পোস্তগোলার তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভবনের ভেতরে অনেক লোক আটকে থাকার খবর পেয়ে টার্নটেবল ল্যাডার (টিটিএল) ও বিএ টেন্ডারসহ বিশেষায়িত গাড়ি আনা হয়েছিল। তবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়নি।
কাজী নজমুজ্জামান বলেন, কারখানায় খেলনায় রং করার কাজে ব্যবহৃত রং, থিনার ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল। রং করার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে শতভাগ দগ্ধ মো. মানিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এত বেশি দগ্ধ রোগীর বেঁচে থাকার নজির নেই বললেই চলে। তারপরও চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।