দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি এ ঘোষণা দেয়, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে দুই দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে এলপিজির সরবরাহ খরচ বেড়েছে বলে সংস্থাটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বেড়ে লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা ১২.৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিইআরসি জানায়, সৌদি আরামকোর ঘোষিত সৌদি সিপি মূল্যকে ভিত্তি ধরে প্রতি মাসেই এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়।
ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে বারবার দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এক মাসে দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়াবে। রান্নার গ্যাস হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এই খরচ সরাসরি জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।