কঠিন লড়াই, উত্তেজনা আর প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভেঙে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১,০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফরাসিদের জয়সূচক গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ফ্রান্সের। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের আটকে রাখতে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় প্যারাগুয়ে। বেশিরভাগ সময় নিজেদের ডি বক্সের আশপাশে খেলোয়াড়দের রেখে আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ফলে প্রথমার্ধে ৮০ শতাংশের বেশি সময় বলের নিয়ন্ত্রণে রেখেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে গোলমুখে তেমন পরীক্ষা দিতে হয়নি প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিলকে। ৩১তম মিনিটে দেম্বেলের ক্রস থেকে এমবাপ্পে হেডের সুযোগ পেলেও প্রতিপক্ষের চাপে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি। অন্যদিকে প্যারাগুয়েও পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণে খুব একটা চাপ তৈরি করতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। ৫২তম মিনিটে গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ানের লম্বা পাস ধরে একাই এগিয়ে গিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তবে শেষ মুহূর্তে দারুণ ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন হুয়ান কাসেরেস। এরপর মানু কোনের শক্তিশালী দূরপাল্লার শটও অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গিল।
অবশেষে ৭০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ফ্রান্স। বদলি নেমে দেজিরে দুয়ে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলেও প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন রেফারি। পরে ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেন তিনি। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক এমবাপ্পে। নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে আক্রমণে উঠলেও সমতা ফেরানোর মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পান এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ে তার টানা দুটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন অরলান্দো গিল। না হলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডায় কয়েকবার খেলার গতি থেমে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ম্যাচ শেষ হয়।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে যান এমবাপ্পে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি লিওনেল মেসির সমান গোল করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯।
এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।