সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপথে আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি সভায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বলেন, “ঈদ যাত্রার সময় চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয়ভাবে মনিটরিং করছে।”
মন্ত্রী জানান, এই ঈদে ঢাকার প্রবেশপথ এবং মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর সংস্কার ঈদের ১০ দিন আগেই সম্পন্ন করা হবে। তাছাড়া পোশাক কারখানার ছুটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, যাতে যানজট কমানো যায়। সড়কের ওপর অস্থায়ী দোকানপাট, যত্রতত্র পার্কিং এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্বে থাকবে।
অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না। বিশেষ করে এসি বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদেরও সতর্ক করে বলেন, সমিতির নামে নিবন্ধিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ অর্থ আদায় করা যাবে না।
মন্ত্রী আরও জানান, ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন পচনশীল দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া ভারী ট্রাক ও লরি চলাচল সীমিত রাখা হবে। নৌপথে সদরঘাটের চাপ কমাতে বসিলা ও কাঞ্চনঘাটে দুটি অস্থায়ী স্টেশন চালু করা হয়েছে। এছাড়া গার্মেন্টস কর্মীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস প্রস্তুত রাখা হবে। রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দিয়ে যানজট রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “সব সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন যাতে যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও হাইওয়ে পুলিশ মনিটরিংয়ে সক্রিয়, এবং পরিবহন শ্রমিক নেতারা নিজ দায়িত্বে তৎপর।”