যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মোখা ও মারিব অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক আহত হওয়াসহ ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করা করেছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলের সদস্য তারিক সাহেহের নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মোখা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মারিবের প্রাদেশিক সরকারি তথ্য কার্যালয় জানিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে অন্তত ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় চারজন আহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়িসহ বেসামরিক সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, উত্তর মারিব শহরের আল-শারিকা এলাকার একটি বেকারিতে ড্রোন হামলায় একজন আহত হন। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এ শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলার ফলে অনেক বাড়িঘর ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মারিব প্রাদেশিক সরকার এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “শরণার্থী শিবির ও আবাসিক এলাকায় চালানো এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্ব সমপ্রদায়ের উচিত এসব অপরাধ নথিভুক্ত করে এর প্রতিবাদ জানানো।” তবে এসব হামলার দায় নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ ১২ বছরের এই সংঘাতের পর ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল। তবে সমপ্রতি মারিব, আল-জাওফ, আল-দ্বালিয়া ও তাইজসহ কয়েকটি প্রদেশে পুনরায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশটি নতুন করে এক মারাত্মক মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি