বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাই মেসির প্রথম সুযোগ, নিজের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড আরও বাড়ানো। একটি গোল তাকে ২২-এ নিয়ে যাবে। দুটি গোল করলে সেই রেকর্ড আরও দূরে সরে যাবে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে একটি গোলই ইতিহাস বদলে দিতে পারে, সেখানে মেসির প্রতিটি শট এখন রেকর্ড বইয়ের নতুন লাইনের সম্ভাবনা।
গোল্ডেন বুট
দ্বিতীয় বড় সুযোগ, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়া। ফিফার টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যানে সেমিফাইনালের আগে মেসির গোল ৮, সঙ্গে ১ অ্যাসিস্ট। আল জাজিরাও লিখেছে, ছয় ম্যাচে ৮ গোল করে মেসি তার প্রথম বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের জন্য লড়ছেন। ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে আর ম্যাচ নেই; অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম ৬ গোল নিয়ে মেসির পিছু নিচ্ছেন।
বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট
তৃতীয় সুযোগ, নকআউট পর্বে মেসির প্রভাব আরও বাড়ানো। ইএসপিএনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে অ্যাসিস্ট করার পর মেসির বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট ১০; ১৯৬৬ থেকে পাওয়া ডেটা অনুযায়ী এটি অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান ১৪, যা গত ৬০ বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করলেই এই রেকর্ডও আরও বড় হবে।
বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার রেকর্ড
চতুর্থ সুযোগ, বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ানো। ফিফা জানিয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেই মেসি ২৬তম ম্যাচ খেলে লোথার ম্যাথাউসকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে সেই রেকর্ড আরও বেড়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামলেই তিনি নিজের সেই রেকর্ড আরও দীর্ঘ করবেন।
আরেক বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাবনা
পঞ্চম সুযোগ, আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের দরজা খোলা। আল জাজিরা লিখেছে, ইংল্যান্ডকে হারালে আর্জেন্টিনা চার বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠবে। মেসি এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। এবার ফাইনালে উঠলে তার ক্যারিয়ারে তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল যোগ হবে, আধুনিক ফুটবলে বিরল এক অর্জন।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ
আর সবচেয়ে বড় দলীয় লক্ষ্য, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে থাকা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। রয়টার্সকে আর্জেন্টিনার রদ্রিগো দি পল বলেছেন, একবার জয়ের পর আবার জেতা আরও কঠিন, কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইংল্যান্ডকে হারালে মেসির আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে যাবে।
ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া
এপি এই জায়গাটাকেই মেসির ‘গোট’ বিতর্কের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি এরই মধ্যে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপায় নেতৃত্ব দিতে পারলে তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার যুক্তি আরও শক্ত করবেন।
তবে সামনে ইংল্যান্ড। সহজ প্রতিপক্ষ নয়। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম মিলে ইংল্যান্ডের আক্রমণকে সামনে থেকে টেনে নিচ্ছেন। এপি লিখেছে, এই সেমিফাইনাল অনেকটাই মেসি বনাম বেলিংহামের লড়াই হয়ে উঠতে পারে। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড মেসির গোল ও গোল-অবদান নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, অবশেষে তার বিপক্ষে নামার সুযোগ পাওয়া বড় ব্যাপার।