তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় রাখতে হবে, যাতে শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। প্রধানমন্ত্রী শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
শ্রমিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো দাবি থাকলে প্রথমে স্মারকলিপির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। মজুরি বোর্ডের মতো নির্ধারিত ফোরামে শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি তুলে ধরতে পারবেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে কিছু উসকানিদাতা অনুপ্রবেশ করেছে। তারা এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকদের আইনগত সহায়তার বিষয়টি সরকার দেখবে। যারা আহত হয়েছেন, তাদের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতারা ধর্মঘটের ডাক দেননি, আন্দোলনও করেননি। তাদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন। সেটি গঠন করা হয়েছে। ফলে এখন শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন চলছে না। যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছেন, তাদের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকজন মুখোশধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করছেন এবং রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। নিজেদের তথাকথিত পেশিবাদী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবেও পরিচয় দিচ্ছেন তারা। এসব বিষয় শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের কাজে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধি রয়েছেন। সেখানে তারা নিজেদের দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন।তিনি বলেন, সবাইকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। শিল্পের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং বেকারত্ব দূর করতে হবে। মিল-কারখানা চালু রেখে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা ও রপ্তানি বাড়াতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।